নির্দেশনা
‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পাঠ্যপুস্তক শিশুদের পারিপার্শ্বিক জগৎ সম্পর্কে অবহিত করার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে এই বিষয়টির মাধ্যমে মূল্যবোধ, জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই শিক্ষাক্রম তৈরি করা হয়েছে।
-বাংলাদেশের সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ, ধর্ম ও রাজনৈতিক ভূখন্ড সম্পর্কিত পাঠ শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ গঠনে সহায়ক হবে।
-ভুগোল, ইতিহাস, ও সমাজ পরিচিতি শিক্ষার্থীদের এ বিষয়গুলোতে জ্ঞান অর্জনে সাহায্য করবে।
-একই সাথে সামাজিক আচরণ ও প্রাকৃতিক অবস্থা সম্পর্কিত তথ্য-সংগঠন ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অনুসন্ধান ও গবেষণা করার দক্ষতা অর্জন করবে।
‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পাঠ্যপুস্তকটির সাথে শিক্ষার্থীরা এখন পরিচিত। কিন্তু তারা এখনও পঠনে সাবলীলতা অর্জন করেনি এবং পাঠ্যপুস্তকের অনুশীলনী করতে অভ্যস্ত নয়। তাই পাঠ্যপুস্তকটিকে শিশুদের জীবন উপযোগী করতে শিক্ষকের সহায়তা আবশ্যক। এজন্য বইটির সকল পাঠ ও নির্দেশিত কাজ শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষনীয়, বয়স উপযোগী এবং ব্যবহারযোগ্য করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক শব্দের জ্ঞান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বইয়ের শেষে শব্দভান্ডার দেওয়া হয়েছে ।
অধ্যায়
এই পাঠ্যপুস্তকে ১৬টি অধ্যায় আছে। অধ্যায়গুলোকে সমাজ, ব্যক্তির আচরণ, ভূগোল, ও সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয়বস্তুতে বিভাজন করা হয়েছে। শিক্ষাক্রমে, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়টির জন্য প্রতিটি অধ্যায়ে নির্দিষ্ট অর্জন উপযোগী যোগ্যতা নির্ধারিত রয়েছে। এই অর্জন উপযোগী যোগ্যতাগুলো সামনে রেখেই প্রতিটি অধ্যায়ের বিষয়বস্তু সাজানো হয়েছে। এ ব্যাপারে শিক্ষক সংস্করণে বিশদ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
বিষয়বস্তু
প্রতিটি অধ্যায়কে ২ থেকে ৫টি বিষয়বস্তুতে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি বিষয়বস্তুতে একটি বিশেষ দিককে নির্দিষ্ট করে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিষয়বস্তুকে দুটি পৃষ্ঠায় বিস্তৃত করা হয়েছে, যেখানে পাঠ উপস্থাপন করা হয়েছে বাম দিকের পৃষ্ঠায় এবং নির্ধারিত কাজ ও প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে ডান দিকের পৃষ্ঠায়। এর ফলে শিক্ষক সহজেই পাঠের সাথে শিখন কার্যক্রমকে সমন্বয় করতে পারবেন এবং শিক্ষার্থীরাও সহজেই নির্দেশিত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় পাঠ পাশের পৃষ্ঠায় খুঁজে পাবে ।
পাঠ
১৬টি অধ্যায়ের প্রত্যেক বিষয়বস্তুকে একাধিক পাঠে বিভাজন করা হয়েছে। যেকোনো বিষয়বস্তুর প্রথম পাঠে শিক্ষক সেই বিষয়টির মূল পাঠ্যাংশ বই থেকে পড়াবেন ও বলার কাজ (এসো বলি) করাবেন এবং দ্বিতীয় পাঠে লেখার কাজ (এসো লিখি) সংযোজনের কাজ (আরও কিছু করি) এবং যাচাই (যাচাই করি) এর কাজ করাবেন। শিক্ষাক্রমে, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অধ্যায়ভিত্তিক শিখনফল দেওয়া আছে। এই শিখনফলগুলো শিক্ষক সংস্করণে প্রতিটি পাঠের সাথে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষক প্রতিটি শিখনফল অর্জন হচ্ছে কি না তা লক্ষ রাখতে পারবেন।
নির্ধারিত কাজ
বইটিতে মূল পাঠ্যাংশের পাশাপাশি প্রশ্ন ও কাজের সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কারণ এসবকিছুই শিখন প্রক্রিয়ার একটি অপরিহায অংশ। শিক্ষার্থীরা শুধু পড়ে এবং মুখস্থ করার উপর নির্ভর করে শিখতে পারে না। তারা প্রশ্নোত্তর, তথ্য-সংগঠন এবং অনুসন্ধানের মাধ্যমে শেখে।
শিক্ষকের জন্য পরামর্শ থাকবে, শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ধারণা বা জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে পাঠ শুরু করে প্রয়োজনমতো চারপাশের উদাহরণ ব্যবহার করবেন। প্রতিটি বিষয়বস্তুর উপর প্রশ্ন ও কাজ ক্রমান্বয়ে সহজ থেকে কঠিন করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে নিম্নলিখিত দক্ষতাগুলোর অনুশীলন ও বিকাশ হবে।
এসো বলি:
বলার কাজে নিজস্ব ধারণা প্রকাশ করতে এবং অনেকটা অনানুষ্ঠানিকভাবে এ দক্ষতা অর্জন করতে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করা হবে। ‘এসো বলি’-তে শিক্ষার্থীদের শ্রেণির কাজে সবার সাথে আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করা হবে এবং শিক্ষকের কাজ হবে শিক্ষার্থীদের উত্তর বোর্ডে লিখে দেওয়া। বোর্ডের লেখা দেখে শিক্ষার্থীরা সঠিক বানান শিখতে পারবে যা তাদের লেখার কাজে সহায়তা করবে।
এসো লিখি:
লেখার কাজ ক্রমান্বয়ে সহজ থেকে কঠিন করা হয়েছে। যেমন, শিক্ষার্থীরা প্রথমে তালিকা তৈরি করবে, এরপর তথ্য বিভাজন ও শ্রেণিকরণের কাজ করবে এবং আরও পরে বাক্য সম্পন্ন করার কাজ করবে।
আরও কিছু করি:
এই অংশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিষয়বস্তুর উপর জ্ঞান আরও বৃদ্ধি পাবে, যেমন-অঙ্কন বা গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিষয়ের আরও গভীরে যাবে। যদিও ‘আরও কিছু করি’র কাজগুলো পরিকল্পনা ও পরিচালনা করতে কিছু সময় বেশি লাগবে, তারপরও এগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য স্মরণীয় শিখন অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।
যাচাই করি:
গাঠনিক মূল্যায়নের জন্য প্রতিটি বিষয়বস্তুর শেষে যাচাই করি দেওয়া হয়েছে। এখানে আছে বহুনির্বাচনি প্রশ্ন, শূন্যস্থান পূরণ, মিলকরণ এবং সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন-উত্তর।
শিক্ষার্থীদের কাজে বৈচিত্র্য আনার জন্য বিভিণ্ন ধরনের দলীয়, জোড়ায় ও একক কাজ সংযোজন করা হয়েছে। শিক্ষক সিদ্ধান্ত নেবেন, কোন কাজের জন্য কী উপায়ে শিক্ষার্থীদের দলে ভাগ করা হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই বুঝতে পারবে কোন কাজের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে ও দলে ভাগ হতে হবে।
দক্ষতা ম্যাট্রিক:
প্রতিটি বিষয়ের নির্ধারিত কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কী ধরনের দক্ষতা অর্জন করবে তা পাঠ্যপুস্তকের ‘দক্ষতা ম্যাট্রিক্সে’ উল্লেখ করা হয়েছে।
মূল্যায়ন
সর্বোপরি, শব্দভান্ডারের আগে শিক্ষার্থীদের সামষ্টিক মূল্যায়নের সহায়তার জন্যে পাঠ্যপুস্তকের শেষে অধ্যায়ভিত্তিক কিছু নমুনা প্রশ্ন সংযোজন করা হয়েছে।